আমজাদ হোসেনের পাশে প্রধানমন্ত্রী

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল।

দোদুল বলেন, আমার ছোট ভাই সোহেল আরমান আর পরিচালক এস এ হক অলিককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। উনি পত্রিকায় সংবাদ দেখে আমাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। নির্বাচনী ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা কথা বলেছেন। বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলে বাবার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার উনি নিয়েছেন। যদি বিদেশে নিয়ে যাওয়া লাগে সেটাও তিনি ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

গত রবিবার সকালে ব্রেইন স্ট্রোক করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন গুণী নির্মাতা আমজাদ হোসেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা এই চলচ্চিত্র পরিচালকের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা।

এ বিষয়ে আমজাদ হোসেনের ছেলে নির্মাতা সোহেল আরমান বলেন,বাবার অবস্থা ভালো নয়। বাবার কিডনি ঠিক মতো কাজ করছে না। আমরা বাবাকে বিদেশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখানেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। তারা শেষ চেষ্টাটুকু করতে চাইছেন।



মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে সোহেল আরমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বাবার অবস্থা সম্পর্কে জানলেন। দায়িত্ব নিলেন। আমাদের পাশে আছেন বললেন। সত্যি কান্নায় আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সত্যি আপনি অসাধারণ। আপনার এমন আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। আপনার তুলনা আপনি। আপনার দীর্ঘায়ূ কামনা করি।

এর আগে চলতি বছর অসুস্থ হয়ে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আমজাদ হোসেন। সেখানে তার ক্ষুদ্রান্ত্রে দুটি সফল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেন তিনি।

৭৬ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন নির্মাণ করেছেন ‘সুন্দরী’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো কালজয়ী সিনেমা। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে সফলতা পেয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments